হৃদয় খান।।
বাংলাদেশের ফ্যাশন অঙ্গনের পরিচিত মুখ, সুপার মডেল মারিয়া কিসপট্টার জন্মদিন আজ। বিশেষ এই দিনটি ঘিরে কোনো বড় আয়োজন নয়, বরং পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়েই জন্মদিন উদযাপন করতে চান তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের নানা ব্যস্ততার মাঝেও ব্যক্তিজীবনে ঘরোয়া পরিবেশেই থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই মডেল।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের ফ্যাশন ও মডেলিং জগতে কাজ করছেন মারিয়া কিসপট্টা। দীর্ঘ এই পথচলায় র্যাম্পে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মডেলদের জন্যও কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তার ক্যারিয়ারের শুরুটা অবশ্য পরিকল্পিত ছিল না। অনেকটা কাকতালীয়ভাবেই মডেলিংয়ে পা রাখেন মারিয়া।
ক্যারিয়ারের শুরুতে জনপ্রিয় ব্যান্ডতারকা জেমসের একটি গানের মিউজিক ভিডিওতে মডেল হিসেবে কাজ করেন তিনি। এরপর আইয়ুব বাচ্চু, পার্থ বড়ুয়া, মাইলস ও প্রমিথিউসের মতো জনপ্রিয় শিল্পী ও ব্যান্ডের বিভিন্ন মিউজিক ভিডিওতেও কাজের সুযোগ পান। পরে জাদু ম্যাজিক প্রোডাকশনের মাধ্যমে চ্যানেল আইয়ের একটি মিউজিক শোতে উপস্থাপক হিসেবে যুক্ত হন। সেখান থেকেই তার সামনে খুলে যায় র্যাম্প মডেলিংয়ের নতুন দিগন্ত।
বাংলাদেশের ফ্যাশন রানওয়েতে তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় মডেল নোবেলের সঙ্গে জুটি হয়ে। এরপর ধারাবাহিকভাবে দেশের বিভিন্ন ফ্যাশন শোতে অংশ নিয়ে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন তিনি।
দীর্ঘ পথচলায় সাফল্যের পাশাপাশি নানা চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হয়েছে মারিয়াকে। নিজের জায়গা তৈরি করতে গিয়ে কারও ওপর নির্ভর না করে এবং কাউকে ব্যবহার না করে এগিয়ে যাওয়াকেই তিনি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন। তার মতে, র্যাম্পের ঝলমলে আলোর আড়ালে একজন মডেলের কঠোর পরিশ্রম ও শারীরিক প্রস্তুতির গল্প অনেকটাই অদৃশ্য থেকে যায়।
নতুন প্রজন্মের মডেলদের নিয়েও কাজ করছেন মারিয়া। তার প্রতিষ্ঠিত ‘জেনেসিস বাই মারিয়া কিসপট্টা’ মডেল গ্রুমিং একাডেমির মাধ্যমে নতুনদের র্যাম্পে হাঁটার পাশাপাশি মিডিয়ায় নিজেদের উপস্থাপনের কৌশলও শেখানো হয়। নিজেই সেখানে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন তিনি।
ব্যক্তিজীবনে পরিবার ও সন্তানকে সময় দিতে ভালোবাসেন মারিয়া। গাছপালার পরিচর্যা, রান্না ও হ্যান্ডক্র্যাফটের মতো ঘরোয়া কাজেও তার আগ্রহ রয়েছে। ভবিষ্যতে ফ্যাশনভিত্তিক এক্সোটিক ফটোগ্রাফি ও সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে বিশেষ কিছু কাজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
মডেলিংয়ে দীর্ঘস্থায়ী ক্যারিয়ারের জন্য জেদ, পরিশ্রম, ধৈর্য, ফোকাস এবং সিনিয়রদের প্রতি সম্মান- এই বিষয়গুলোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন মারিয়া কিসপট্টা।
জন্মদিনে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর পাশাপাশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে যারা তাকে ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞ এই সুপার মডেল। নতুন স্বপ্ন ও পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান তিনি।